ইলেকট্রিক স্কুটার এবং পেট্রল-অকটেনচালিত মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল। শিল্প গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল গতকাল গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০২৭ সালের মধ্যে অর্ধ লাখ টাকার মধ্যে উন্নতমানের রাইডো ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটার গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে চাই।’
আরএন পাল জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে এ বিনিয়োগ করা হবে। শিগগিরই হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তরুণ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পরিবেশবান্ধব ‘রাইডো’ ইলেকট্রিক স্কুটার উৎপাদনের পাশাপাশি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড টিভিএসের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনে বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আধুনিক বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতেও বিনিয়োগ করা হবে।
এ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে শিল্প গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘উৎপাদন ও বিপণনের জন্য সরাসরি প্রায় এক হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পুরোদমে চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরো চার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’
নতুন এ ব্যবসায় প্রবেশের বিষয়ে আরএন পাল বলেন, ‘মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল তরুণদের লাইফস্টাইল পণ্যে পরিণত হয়েছে। আগের উৎপাদন ও বিপণন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা মোটরসাইকেল এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজারে প্রবেশ করেছি।
সম্প্রতি এক চুক্তির মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল বাংলাদেশে টিভিএস মোটরসাইকেল বিপণনের দায়িত্ব পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন মডেল, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে আমরা এ ব্র্যান্ডটিকে আবারো শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে চাই।’
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বাইক ব্যবসার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ আমাদের হাত ধরে টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাত শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কারখানায় মাসে পাঁচ হাজার ইউনিট টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন হবে। পরবর্তী সময়ে কারখানা সম্প্রসারণ করে উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে ইলেকট্রিক স্কুটার উৎপাদন ও সংযোজন শুরু হয়েছে। এজন্য এরই মধ্যে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া পণ্য তৈরিতে ২০ শতাংশ যন্ত্রাংশ কারখানাতেই উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রায় সব যন্ত্রাংশ নিজস্ব কারখানায় তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে নিজস্ব কারখানায় প্রতি মাসে রাইডো ব্র্যান্ডের ৫০০ ইউনিট ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরি হচ্ছে। আরো সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। পুরোদমে চালু হলে প্রতি মাসে তিন হাজার ইউনিট স্কুটার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।’
ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবসায় বড় চ্যালেঞ্জ চার্জিং অবকাঠামো। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের তথ্য জানিয়ে আরএন পাল বলেন, ‘আমরা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের রিটেইল আউটলেটগুলোয় দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করছি।’ ফলে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।